Sunday, 13 September 2020

সান্দাকফু - ফালুট ট্রেক

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এবং এপ্রিল থেকে জুন সান্দাকফু যাওয়ার আদর্শ সময়। যারা বরফ ভালোবাসেন তারা ফেব্রুয়ারি বা মার্চে ও যেতে পারেন তবে এই সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমে যায়।

ছবি - রাজশ্রী

নিচে সান্দাকফু-ফালুট ট্রেক রুটের বিস্তারিত বিবরণ রইল। 

প্রথম দিন - মানেভঞ্জন/ধোত্রে থেকে টুমলিং/টংলু

৭০৫৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মানেভঞ্জন গ্রামটি সান্দাকফু ট্রেকিং রুটের প্রবেশদ্বার। এখান থেকেই সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের জন্য বিশেষ অনুমতি নিতে হয়।


প্রথমদিনেই পৌছে যাওয়া যায় টুমলিং। টুমলিং এর পাশের গ্রাম টংলুতেও বেশ কয়েকটা হোম-স্টে রয়েছে। অন্য একটি গ্রাম ধোত্রে থেকেও পৌছে যাওয়া টংলু অথবা টুমলিং। এই রাস্তাটি অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয়। 


দ্বিতীয় দিন - টুমলিং থেকে কালিপোখরি

১০,০০০ ফুট উচ্চতার টুমলিং এর অবস্থান ভারত ও নেপালের সীমানায়। যাদের হাতে সময় কম তাঁরা এখান থেকেও ট্রেক শুরু করতে পারেন। দ্বিতীয় দিনে পৌছে যাওয়া যায় কালিপোখরি। নেপালী ভাষায় ‘কালি’ অর্থাৎ ‘কালো’ এবং ‘পোখরি’ কথার অর্থ ‘পুকুর’। 

ছবি - দেবকুমার

তৃতীয় দিন - কালিপোখরি থেকে সান্দাকফু

এই দিনেই কালিপোখরি থেকে পৌছে যেতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ সান্দাকফুতে। উচ্চতা প্রায় ১২,০০০ ফুট। মেঘমুক্ত দিনে সান্দাকফু থেকে দেখা যায় মাউন্ট এভারেস্ট সহ একাধিক শৃঙ্গ। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা এড়ানোর জন্য এইদিন অতিরিক্ত জলপান করা আবশ্যক। 

ছবি - পাপাই


চতুর্থ দিন - সান্দাকফু থেকে ফালুট

সান্দাকফু থেকে পরেরদিন পৌছে যাওয়া যায় ফালুট। উচ্চতা ১১,৮০০ ফুট। ফালুট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং পান্ডিম সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ দেখা যায়।

ছবি - সৌরভ


পঞ্চম দিন - ফালু্ট থেকে গোর্খে

ফালুট থেকে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা যায় গোর্খে তে। একপাশ পাহাড়ী নদী দিয়ে ঘেরা অপূর্ব সুন্দর একটি গ্রাম। পাহাড়ী নদীর ঠান্ডা জলে স্নান করে ট্রেকিং এর যাবতীয় ক্লান্তি ধুয়ে নিতে পারেন। 

ছবি - গৈরিক

ষষ্ঠ দিন - গোর্খে থেকে শ্রীখোলা/ভারেং

শেষ দিনে গোর্খে থেকে নেমে আসতে হবে শ্রীখোলা অথবা ভারেং গ্রামে। এই দুটি জায়গা থেকেই নিউ জলপাইগুড়ি অথবা বাগডোগরার গাড়ি সহজলভ্য। 

ছবি - শুভজিৎ

আমাদের সাথে ট্রেক করার জন্য অথবা ট্রেকিং এর সমস্ত ব্যবস্থাপনার জন্য যোগাযোগ -

ফোন - 9038367159 / 8420020191

ই-মেল - blowingwindtravel@gmail.com

ওয়েবসাইট - blowingwindtourism.blogspot.com

ধোত্রে

 সিঙ্গালিলা ফরেস্টের অদূরে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত স্বল্প পরিচিত গ্রাম ধোত্রে। ৮৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ধোত্রে ডে-ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্য। ধোত্রে থেকে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে মাত্র ঘন্টা তিনেক ট্রেক করে পৌছে যাওয়া যায় টংলু। টংলু থেকে খুব অল্প সময়ে পায়ে হেঁটে ঘুরে নেওয়া যায় টুমলিং, মেঘমা ও চিত্রে। 


এখনও খুব বেশী হোম স্টে এবং হোটেল গড়ে না ওঠায় গ্রামটি অপেক্ষাকৃত নির্জন। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মানেভঞ্জং হয়ে সরাসরি পৌছে যাওয়া যায় ধোত্রে। সময় লাগে কম-বেশি তিন ঘন্টা। 


পাহাড়ে বেড়াতে এসে যারা গাড়ির ঘেরাটোপে বন্দী না থেকে হেঁটে বেড়াতে চান ইচ্ছেমত কিংবা হঠাৎ পাওয়া ছুটিতে ছোট্ট একটা ট্রেক করতে চান, তাঁরা নির্দ্বিধায় বেড়িয়ে আসতে পারেন ধোত্রে থেকে। 


হোম স্টে এবং গাড়ি বুকিং এর জন্য যোগাযোগ -

ফোন - 9038367159 / 8420020191

ই-মেল - blowingwindtravel@gmail.com

ওয়েবসাইট - blowingwindtourism.blogspot.com

সিটং

দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং মহকুমায় রয়েছে ছবির মত সাজানো একটি হ্যামলেট, নাম সিটং। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এই গ্রামটির নাম ‘কমলালেবুর গ্রাম’। শীতের শুরুতে প্রায় গোটা গ্রামটাই কমলা রঙে ঢাকা পড়ে যায়। সে এক অনবদ্য দৃশ্য।



সিটং এ ঢোকার মুখে বয়ে চলেছে তিরতিরে পাহাড়ী নদী রিয়াং। গ্রামের প্রতিটা বাড়িতেই রয়েছে ধাপ চাষের ব্যবস্থা এবং কমলা বাগান। খানিক চড়াই পেরিয়ে পৌছে যাওয়া যায় সিটং ভিউ পয়েন্ট।



 পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে যাদের আপত্তি নেই তারা রিয়াং নদীর পার ধরে কিছুক্ষণ হেঁটে মহানন্দা স্যাংচুয়ারির কাছে পৌছে যেতে পারেন। সেখানে লুকিয়ে রয়েছে পাহাড়ের ধাপ বেয়ে নেমে আসা লেপচাঝোরা (‘ঝোরা’ অর্থাৎ প্রাকৃতিক ঝরনা)। 





বর্ষাকাল বাদে সারাবছর এখানে নানা প্রজাতির হিমালয়ান পাখির দেখা মেলে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সড়কপথে সেবক - মংপু হয়ে পৌছে যাওয়া যায় সিটং। দূরত্ব ৫৭ কিলোমিটার। সপ্তাহান্তে দুই বা তিনদিন বেড়িয়ে আসতেই পারেন এই কমলালেবুর গ্রামে। 


হোম স্টে এবং গাড়ি বুকিং এর জন্য যোগাযোগ -

ফোন - 9038367159 / 8479003369

ই-মেল - blowingwindtravel@gmail.com

ওয়েবসাইট - blowingwindtourism.blogspot.com



সান্দাকফু - ফালুট ট্রেক

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এবং এপ্রিল থেকে জুন সান্দাকফু যাওয়ার আদর্শ সময়। যারা বরফ ভালোবাসেন তারা ফে...